২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলে বিরোধীদের ঐক্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬
নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলে বিরোধীদের ঐক্য ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট হয়েছেন বিরোধী শিবিরের পাঁচ নেতা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁরা একটি ‘অ-আক্রমণ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পরাজিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তবে সরকার গঠনের প্রশ্নে ঐক্য গড়লেও নীতি, নেতৃত্ব ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের তেল আবিবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান এবং ইসরায়েল বেইতেইনু দলের প্রধান আভিগদোর লিবারম্যান। কয়েক ঘণ্টার আলোচনা শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও সংস্কার ও পুনর্গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি জায়নবাদী ও রাষ্ট্রনায়কোচিত সরকার গঠন তাঁদের অভিন্ন লক্ষ্য।

তবে এই সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। লিবারম্যান অভিযোগ করেছেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ভবিষ্যৎ জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন এবং নীতিগতভাবে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেসব প্রশ্নেরও এখনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

গোলান ছাড়া বিরোধী জোটের অন্য নেতারা মূলত ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁদের কেউই সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেননি। কেবল ডেমোক্র্যাটস দল বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়েও বিরোধী নেতাদের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও তাঁরা উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তোলেননি। বরং এসব পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিই তাঁদের সমালোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

ইসরায়েলি বিশ্লেষক ও কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অ্যারন ব্রেগম্যানের মতে, বেনেত, লিবারম্যান ও আইজেনকোটের মতো নেতারা ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর ভাষায়, তাঁরা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মূল সমস্যাটি এড়িয়ে যাচ্ছেন, যার কেন্দ্রে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।

ব্রেগম্যানের মতে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে এসব নেতার পার্থক্য হলো, তাঁদের বিরুদ্ধে একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিখের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতাদের ওপরও তাঁরা নির্ভরশীল নন। তবে সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের প্রভাব শক্তিশালী।

এদিকে ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের ইসরায়েলি রাজনীতি বিশেষজ্ঞ রোই জুর মনে করেন, নিরাপত্তা ও সংঘাতের বিষয়ে গোলান ও লিবারম্যানের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাঁদের ছাড়া বিজয়ী জোট গঠন করা কঠিন। তাঁর মতে, দুজনই নেতানিয়াহুর বিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিরোধী। ফলে তাঁদের মধ্যকার মতবিরোধের চেয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর অভিন্ন লক্ষ্যই বিরোধী জোটের রাজনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ